বন্দর কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা খুন, ‘সিফাত বাহিনী’র প্রধানসহ আটক ৯
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদকে হত্যার ঘটনায় কথিত কিশোর অপরাধী দল ‘সিফাত বাহিনী’র প্রধান শেখ সিফাতসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাহিনীর অন্যতম সদস্য ‘হোয়াইট জুম্মন’ ও তিন নারীও রয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খুদেবার্তায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে আটক অন্যদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলার শিকার হন ৩৫ বছর বয়সী বুলবুল আহমেদ। পরে তিনি মারা যান।
নিহত বুলবুল শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে এবং ইসলামী যুব আন্দোলন বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পুরোনো বিরোধের অভিযোগও সামনে এসেছে। মাছুম বিল্লাহর দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে তিনি এ ঘটনায় মামলা করেন। ওই মামলায় স্থানীয় কথিত ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়েছিল। মামলার জের ধরেই বুলবুলের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে বন্দরের মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের পর বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কথিত কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একটি পুরোনো মামলার জের ধরে একজন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকে প্রকাশ্যে হামলা করে হত্যার অভিযোগ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, হামলার পেছনে মূল কারণ এবং আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কিশোর অপরাধীদের একটি দল কীভাবে এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠল এবং পুরোনো মামলার জের ধরে একজন যুব নেতাকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটানোর সাহস পেল? হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কথিত কিশোর গ্যাংয়ের পেছনের পৃষ্ঠপোষকদেরও খুঁজে বের করার দাবি উঠেছে।









Discussion about this post