আড়াইহাজার থানায় টাকা দাবির অভিযোগ, মারধরে পা ভাঙার দাবি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় গ্রেপ্তার বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা দাবির পর মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
মারধরে আরমান হোসেন নামে এক যুবকের বাম পা ভেঙে গেছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আড়াইহাজার থানায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আরমান হোসেন। তিনি উপজেলার গহরদী এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
আরমানের অভিযোগ, থানায় গ্রেপ্তার বাবার জন্য খাবার নিয়ে গেলে এসআই রুহুল আমিন তার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে থানার ভেতরে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মারধরে তার বাম পা ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ওই মামলায় দেলোয়ারসহ কয়েকজন আসামি রয়েছেন। মামলার একপর্যায়ে আসামিদের একজন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। পরবর্তীতে দেলোয়ার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার স্বজনদের কাছে বিভিন্নভাবে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের দাবি, দেলোয়ার গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এসআই রুহুল আমিন আসামিদের স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিন দফায় মোট ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যে গত শুক্রবার আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরের দিকে আনোয়ারকে খাবার দিতে তার ছেলে আরমান আড়াইহাজার থানায় যান। সেখানে আবারও টাকা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন আরমান।
আহত আরমান হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, “থানায় টাকার জন্য আমাকে মেরে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। পরে পুরো ঘটনা বলব।”
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এসআই রুহুল আমিন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি আরমানকে আগে দেখিনি, চিনিও না। কে মারছে বা কারা মারছে, তা আমার জানা নেই।”
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেনও অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, “এটা একটি মিথ্যা অভিযোগ। এখানে আরমান নামে যে ছেলেকে মারধরের কথা বলা হয়েছে, তাকে মারধর করার কোনো কারণ নেই। রুহুল আমিন এই মামলার কিছু না। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় আরমানের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে থানার ভেতরে একজন ব্যক্তির আহত হওয়ার অভিযোগের প্রকৃত কারণ কী এবং তার আঘাতের সঙ্গে অভিযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।









Discussion about this post