রূপগঞ্জে ‘কুত্তা শ্রাবণ’সহ চারজন গ্রেপ্তার
পিস্তল-গুলি ও রামদা উদ্ধার, ১৮ মামলার আসামির বিরুদ্ধে গ্যাং পরিচালনার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযানে কথিত গ্যাং নেতা শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণ’সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ছয়টি রামদা উদ্ধারের দাবি করেছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন—সিয়াম (২০), দিপু (১৯) ও কামরুজ্জামান (১৯)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার শ্রাবণ দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় কিশোর ও তরুণদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন। হত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক বলেন, শ্রাবণ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে অভিযোগকারীকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একটি মামলার পর বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এসআরবির দাবি, আগের একটি মামলা প্রত্যাহার না করায় তারাবো পৌরসভার টাটকি এলাকায় আমেনা বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে আগুন দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে শ্রাবণ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
রূপগঞ্জের ফল ব্যবসায়ী রনি হত্যা মামলাতেও শ্রাবণ ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার দাবি করেছে এসআরবি। ওই ঘটনার পর শ্রাবণের শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
‘নাদিম অপহরণ’ মামলাতেও প্রধান আসামি
গত ১৬ সেপ্টেম্বর আলোচিত ‘নাদিম অপহরণ’ মামলার প্রধান আসামি হিসেবেও শ্রাবণের নাম উল্লেখ করেছে এসআরবি। সংস্থাটির দাবি, এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ছিল শ্রাবণের নেতৃত্বাধীন গ্যাংয়ের অন্যতম প্রধান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
এসআরবি জানায়, ২০২৪ সালেও যৌথ বাহিনীর অভিযানে শ্রাবণ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে সংস্থাটির দাবি।
৫০-৬০ তরুণের গ্যাং?
রূপগঞ্জে সক্রিয় কিশোর গ্যাং সম্পর্কে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক বলেন, এলাকায় দুটি প্রধান গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর একটি শ্রাবণের নেতৃত্বে এবং অন্যটি ‘নবী গ্রুপ’ নামে পরিচিত। শ্রাবণের অধীনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার এড়াতে শ্রাবণ নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
‘কুত্তা শ্রাবণ’ নামের প্রসঙ্গে এসআরবি জানায়, শ্রাবণের বাবাও ওই নামে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা ছিল। সেই সূত্রেই শ্রাবণের নামের সঙ্গে ‘কুত্তা’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে বলে জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক।
অস্ত্র উদ্ধারের দাবি, থানায় হস্তান্তর
অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রের বিষয়ে এসআরবি বলছে, এগুলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। তবে এসব অস্ত্র কোন কোন ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
গ্রেপ্তার চারজনকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শ্রাবণসহ চারজনের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সেই অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।









Discussion about this post