আড়াইহাজার প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুলিশের ওপর মাদক কারবারি চক্রের হামলা, সরকারি সরঞ্জাম ছিনতাই এবং প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে—জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া এলাকায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ ওঠে মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এ সময় হামলাকারীরা এএসআই মামুনুর রশিদের নেতৃত্বাধীন পুলিশের দলকে লক্ষ্য করে বাধা সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে পুলিশের ওয়াকিটকি, একাধিক মোবাইল ফোন, ব্যাগ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মাদকচক্রের দৌরাত্ম্য যে কতটা বেড়েছে, এই ঘটনাই তার নগ্ন বাস্তব চিত্র।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে বাধাগ্রস্ত করা, তাদের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা—সব মিলিয়ে এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ পার্শ্ববর্তী খেলার মাঠে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, যা স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পরিস্থিতির কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া ওয়াকিটকি ও অন্যান্য কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করে। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হলেও মূল অভিযুক্তরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অপরাধচক্র সক্রিয় থাকলেও তাদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।
ফলে তারা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাচ্ছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো: সবজেল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—একটি সংঘবদ্ধ চক্র যদি পুলিশের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে নিরাপদে সরে যেতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত ?
এ ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতাই নয়, বরং প্রশাসনিক সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।









Discussion about this post