অকিল ভুইয়ার নাম জড়িয়ে বিতর্ক, ক্যাশিয়ার পরিচয়ে মাসুম ও সহযোগী আমিরের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা ডিপোকে ঘিরে তেলবাহী ট্যাংকলরী চালকদের কাছ থেকে ভয়ভীতি ও মামলার আতঙ্ক দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অকিল ভুইয়ার নাম ব্যবহারকারী একটি চক্র, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী চালকরা।
চালকদের দাবি, ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্টদের নামে মাসোহারা দেওয়ার কথা বলে প্রতি ট্যাংকলরী থেকে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে।
এই চাঁদা আদায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন অকিল ভুইয়ার ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত কুম্মর মাসুম এবং শ্রমিকলীগ ঘনিষ্ঠ পলাশের সহযোগী আমির।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় ভয় দেখিয়ে।
অভিযুক্তরা দাবি করে, আদায়কৃত অর্থ ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, এফডিসির সামনে এবং নতুন বাড্ডা এলাকায় দায়িত্বরত সার্জেন্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে নামমাত্র অংশ ছাড়া বাকি অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহযোগী স্বীকার করেছেন, অতীতে তিনি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সার্জেন্টের নামে চাঁদা তুলে তা ভাগাভাগি করা হতো।
যদিও তিনি দাবি করেন, এ কাজে সরাসরি অকিল ভুইয়ার সম্পৃক্ততা নেই।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কুম্মর মাসুম এই চাঁদাবাজির টাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন।
ডিপোর সামনে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের মতো কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। একইভাবে আমিরের বিরুদ্ধেও অতীতে তেল চুরি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, যা এখন নতুনভাবে চাঁদাবাজিতে রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এই চক্র বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে আসছে এবং বর্তমানে অকিল ভুইয়ার নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চালকরা জানান, প্রতিদিনের এই চাঁদাবাজিতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তারা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের গোয়েন্দা সংস্থা—এনএসআই ও ডিএসবি’র জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শেষকথা :
আইনের শাসন যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে এমন সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থাও নষ্ট করে। দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এই অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়—এটাই এখন সময়ের দাবি।









Discussion about this post