রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ, সংলাপের আহ্বান হেফাজত নেতা আউয়ালের
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও ডিআইটি রেলওয়ে কলোনী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল। তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর কঠোর সমালোচনা করে সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজের খুতবার আগে ডিআইটি রেলওয়ে কলোনী জামে মসজিদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে চলমান আন্দোলন ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। “এত আন্দোলন, এত সংঘাত—দেশ আবার অশান্তির দিকে যাচ্ছে। এত ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই রাষ্ট্রকে নতুন করে অস্থিরতায় ঠেলে দেওয়া ঠিক নয়,” বলেন তিনি।
মাওলানা আউয়াল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংলাপের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “মাঠে-ময়দানে সংঘর্ষ না করে উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসতে হবে। দেশের জ্ঞানী-গুণী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।” তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান সংঘাতের ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়লে এর সুযোগ নিতে পারে বিরোধী শক্তি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপ, স্লোগানবাজি ও সংঘর্ষ কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। “শুধু স্লোগান দিয়ে নয়, বাস্তবসম্মত আলোচনার মাধ্যমেই সংকট নিরসন সম্ভব,” মন্তব্য করেন তিনি।
‘জুলাই আন্দোলন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আন্দোলনের লক্ষ্য ও সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আবারও বসা প্রয়োজন। “জুলাই সনদ কোনো চূড়ান্ত দলিল নয়, এটি মানুষের তৈরি। তাই প্রয়োজন হলে সংশোধন করে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে,” বলেন আউয়াল।
তিনি দাবি করেন, দেশের স্বার্থে সব পক্ষকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও সংলাপের পথ বেছে নিতে হবে। “একবারে সমাধান না হলে বারবার আলোচনায় বসতে হবে। সংঘর্ষ, রক্তপাত বা প্রতিহিংসা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পথ হতে পারে না,” বলেন তিনি।
তবে স্থানীয় পর্যায়ে মাওলানা আব্দুল আউয়ালকে ঘিরে পূর্বের কিছু বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, অতীতে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, বিশেষ করে সাবেক ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সাম্প্রতিক বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আবারও আলোচনায় এসেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের এমন আহ্বান সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে, তবে তাদের বক্তব্যে নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মাওলানা আউয়ালের এই আহ্বান পরিস্থিতি শান্ত করার একটি বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংলাপের পথে এগোয় কিনা।









Discussion about this post