নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হকার্স মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন ফাঁকা গুলি ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার শান্তিধারা হকার্স মার্কেটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে স্বপন, খোকন ও শুভ নামে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বায়তুল মোকাররম হকার্স কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সাইনবোর্ডের শান্তিধারা এলাকায় জমি কিনে হকার্স মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে মার্কেটটির নির্মাণকাজ চলমান। তবে মার্কেটের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও দখল নিয়ে সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ রফিক ইসলাম সরকারসহ এক পক্ষের সঙ্গে সমিতির অন্যান্য সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধের জেরে সমিতির দুই পক্ষকেই মার্কেট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রাজ্জাক বেপারী মার্কেটটির নিয়ন্ত্রণ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ওই মার্কেটকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্জাকের নিয়ন্ত্রণ থেকে মার্কেটটি স্থানীয় ওসমান গনির নিয়ন্ত্রণে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। এরই মধ্যে সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ রফিক ইসলাম সরকার আবারও মার্কেটটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে রফিক ইসলাম সরকার লোকজন নিয়ে মার্কেটের সামনে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে ওসমান গনিও লোকজন নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুপুরের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া এবং কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। এতে আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই সংঘর্ষে জড়িতরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, “দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
হকার্স মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং সর্বশেষ প্রকাশ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কেটটির প্রকৃত মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘর্ষের নেপথ্যে কারা রয়েছেন—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









Discussion about this post