কারাগারেও ঔদ্ধত্য! তারেক সাঈদের যোগাযোগ এক মাস বন্ধ, বদলি কিশোরগঞ্জে
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :
কারাবিধি অমান্য, উচ্ছৃঙ্খল ও অশোভন আচরণ এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শাস্তি হিসেবে টেলিফোনে যোগাযোগ, পারিবারিক সাক্ষাৎ ও অন্যান্য সব ধরনের যোগাযোগ এক মাসের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার জান্নাত-উল-ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক কারণে গত ৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে কারাবিধি না মেনে নিজের ইচ্ছামতো চলা এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ ওঠে।
জেল সুপার জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি মুন্সিগঞ্জ কারাগারে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্যান্য সেল পরিদর্শনে গেলে তারেক সাঈদ তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং সেল এলাকা থেকে চলে যেতে বলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে কারাবিধি অনুযায়ী তাকে এক মাসের জন্য পারিবারিক সাক্ষাৎ থেকে বিরত রাখার শাস্তি দেওয়া হয়।
এরপর ঘটে আরও গুরুতর একটি ঘটনা।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর সেল এলাকায় সাপ্তাহিক পরিদর্শনের সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক বন্দি মো. কামাল হোসেন আগে থেকে সেলে রাখা ময়লাযুক্ত পানি জেল সুপারের দিকে ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদে কামাল হোসেন দাবি করেন, ২ সেপ্টেম্বর তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর তারেকই তাকে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পরিকল্পনা ও ইন্ধন দেন। বিনিময়ে প্রতিদিন পাওয়া সিগারেট দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান।
কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সাঈদের উপস্থিতিতে কামাল হোসেন আরও জানান, এ ধরনের ঘটনা ঘটালে তাকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এমনকি কারা কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানি করার কথাও তাকে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর কারাবিধি অনুযায়ী দুজনের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কামাল হোসেনকে এক মাস ডান্ডাবেড়ি পরানো এবং অন্য কারাগারে বদলির শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আর তারেক সাঈদ মোহাম্মদের টেলিফোনে যোগাযোগ, পারিবারিক সাক্ষাৎসহ সব ধরনের যোগাযোগ এক মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তাকে মুন্সিগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
জেল সুপার জান্নাত-উল-ফরহাদের ভাষ্য, তারেক সাঈদের আচরণ উগ্র, বদমেজাজি, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উচ্ছৃঙ্খল। তাকে নিয়ন্ত্রণে কারা কর্তৃপক্ষ কঠোর ভূমিকা নিলে তিনি বিভিন্নভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক সাঈদকে কারাগারে ৪-৫ জন কারারক্ষী দিয়ে মারধরের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেল সুপার তা অস্বীকার করেন। তার দাবি, তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তিনি বা তার স্বজনদের মাধ্যমে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, তারেক সাঈদ মোহাম্মদ নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা দুটি মামলাতেও তিনি বিচারাধীন বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন।









Discussion about this post