চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার ফয়সালকে এবার ট্যাংকলরী ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকেও অব্যাহতি
বাপ-দাদার বাড়ি রাজশাহী, নানার বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জ—আত্মীয়তার পরিচয় আর প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে দাপটের অভিযোগ
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা অয়েল পিএলসির গোদনাইল ডিপোর কর্মীদের কাছে চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর একের পর এক সংগঠন থেকে ছিটকে পড়ছেন মহানগর কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মাহমুদ ফয়সাল।
এবার বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পদ থেকেও তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়, আত্মীয়তার সূত্র এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় সামনে এনে ফয়সাল সিদ্ধিরগঞ্জে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাকে ঘিরে নানা ধরনের অপকর্ম ও দাপটের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোই স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণিত নয়।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ব্যাসদেব রায় বিকাশ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফয়সালকে সাময়িক অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের পদ্মা অয়েল কোম্পানি গোদনাইল, নারায়ণগঞ্জ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুদ্দিন মাহমুদ ফয়সালের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব বিষয় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
সংগঠনের নীতিমালাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ফয়সালের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর মাত্র একদিন আগে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর), দলীয় নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার ‘সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে’ ফয়সালকে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন।
চাঁদার দাবিতে হুমকির অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ জুলাই পদ্মা অয়েল পিএলসির গোদনাইল ডিপোর জেট-এ-১ পয়েন্টে কর্মরত চেকার মো. রফিকুল ইসলামের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে কর্মীদের কাছ থেকে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১ আগস্ট সকাল সোয়া ১১টার দিকে ফয়সাল অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে ডিপোর জেট-এ-১ পয়েন্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আবারও একই পরিমাণ চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কর্মীদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ, চাকরি করতে না দেওয়া এবং হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের পর মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
একদিকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগঠন থেকে বহিষ্কার এবং ব্যবসায়ী সংগঠন থেকেও অব্যাহতি—সব মিলিয়ে ফয়সালকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন আর কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। তবে মামলার অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যদি প্রভাব বিস্তার বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান কতটা কঠোর হয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।








Discussion about this post