হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত লাশ: বন্দরজুড়ে রহস্য, হত্যা সন্দেহে তদন্তে পুলিশ
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় এক যুবকের হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সৈয়দ হোসেন পিয়াল (২৪)–এর মৃত্যুকে ঘিরে আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে।
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় বন্দর থানার একরামপুর সিএসডি গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পিয়াল স্থানীয় আবুল হোসেনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাত প্রায় ৩টার দিকে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান পিয়াল। কিন্তু সারাদিন কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে ঘরের পেছনের একটি ছোট জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, তিনি ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় আছেন। পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার অন্যতম রহস্যজনক দিক হলো—লাশ উদ্ধারের সময় পিয়ালের দুই হাত বাঁধা ছিল। এছাড়া ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকলেও পেছনের একটি ‘পকেট জানালা’ খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা দিয়ে সহজেই একজন মানুষের যাতায়াত সম্ভব বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ পাঠান জানান, ঘটনাটি স্বাভাবিক নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। “হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকলেও পেছনের জানালাটি খোলা ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে সন্দেহ করছি,”—বলেন তিনি।
তবে তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।
ঘটনাটি ঘিরে বন্দর থানায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









Discussion about this post