সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ফতুল্লায় মামলা: ১৫৫ আসামি, শামীম ও অয়ন ওসমানের প্ররোচনার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগানের প্রস্তুতির অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমানের প্ররোচনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন হাজীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন। মামলায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বিসিক শাসনগাঁও এলাকার রাব্বি (২০), ইয়াছিন আরাফাত (২০) ও শিমুল (২০), গলাচিপার পলক (১৮), পাইকপাড়ার আবরার আহম্মেদ (১৮), বিসিকের ফেরদাউছ (১৮), শাসনগাঁওয়ের তানভির হোসেন (১৮), নয়ন (১৯) ও আবু বক্কর (১৮)।
মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে ফতুল্লার শান্তিধারা ২ নম্বর রোডের একটি মসজিদের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকরা একত্রিত হয়েছেন—এমন তথ্য পায় পুলিশ। সেখানে সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলেও পুলিশের অভিযোগ।
খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে অবস্থানকারীদের কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহায়তায় নয়জনকে আটক করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ
এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং কথিত ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমানের প্ররোচনায় অন্যদের সঙ্গে নিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা ও এতে সহযোগিতা করা হচ্ছিল।
তবে এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে শামীম ওসমান বা অয়ন ওসমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নামীয় আসামিদের মধ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীরাও
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কুতুবপুরের পাগলা এলাকার মীর হোসেন মিরু (৪৫), পাগলা কামালপুরের মনা দাস (৪৫), শিয়াচর তক্কারমাঠের শামীম, পিলকুনির ইমরান হোসেন শুভ ওরফে চান শুভ, ফতুল্লা সরকারবাড়ির অন্তর (২২) ও হৃদয় (২৬), পোস্ট অফিস রোডের মুশফিকুর রহমান তুষার (২৮) ও মেহেদি হাসান তন্ময় (২২), আলীগঞ্জের শাহাদাত হোসেন সেন্টু (৩৮) ও সাত্তার (৪৫)।
এ ছাড়া পিলকুনির সিনহা (২৮), রঘুনাথপুরের মোবারক হোসেন মুন্সি (৩০), শান্তিধারার শেখ জামাল (৩২) ও রবিন মাহমুদ (৩০), হক রোলিং মিল এলাকার রুমিন আজমিন (৩০), দাপা ইদ্রাকপুরের খোকা (২৬), কাশীপুরের ইরফান হোসেন লিমন (৩০) ও ফয়সাল দর্পন (৩৫) এবং আরও বেশ কয়েকজনের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, এদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে মামলায় নাম থাকা প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে যাচাই করা হবে।
বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, “এই মামলায় কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় নাম থাকা এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে ঘটনায় কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল এবং এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটুকু—তা যাচাই করা হবে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া এ মামলাটি ফতুল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ৬৫ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা এবং সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমানের বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ ওঠায় মামলাটি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।








Discussion about this post