চীনা ব্যবসায়ীর গাড়ি থেকে লুট হওয়া ৯৭ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
রূপগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের বেতনের এক কোটি টাকা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে পালানোর অভিযোগ; চার দিনের মধ্যে প্রায় পুরো টাকা উদ্ধার করেছে শিল্প পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক চীনা পোশাক ব্যবসায়ীর গাড়ি থেকে লুট হওয়া এক কোটি টাকার মধ্যে ৯৭ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে গাজীপুর শিল্প পুলিশ।
এ ঘটনায় গাড়িচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া গাড়িচালক পূর্বপরিকল্পিতভাবে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
শনিবার দুপুরে গাজীপুর শিল্প পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন।
গ্রেপ্তাররা হলেন—চীনা ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহিদ হাসান (৩০), ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. আক্তারুজ্জামান (৫১) এবং তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার (২৪)। জাহিদ হাসানের বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া এলাকায়।
পুলিশ জানায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় অবস্থিত ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও কারখানার অন্যান্য খরচের জন্য এক কোটি টাকা বহন করা হচ্ছিল।
গত ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় ক্যাডেট ক্লাবের সামনে পৌঁছালে গাড়িচালক জাহিদ হাসান পরিকল্পিতভাবে ওই টাকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আকরামুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। পরে গাজীপুর শিল্প পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে।
পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একপর্যায়ে গাড়িচালক জাহিদ হাসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া টাকার মধ্যে ৯৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া টাকা ও গ্রেপ্তার তিনজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি তিন লাখ টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনা ও জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার মাত্র চার দিনের মধ্যেই লুট হওয়া টাকার প্রায় পুরোটা উদ্ধার হওয়ায় কারখানার শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে।
তবে পরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতার বিষয়টিও সামনে এসেছে।








Discussion about this post