তারাবের রুবেল ভূঁইয়া গ্রেপ্তার
হত্যা-চাঁদাবাজি-মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি, এলাকায় স্বস্তি
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভা এলাকার আলোচিত রুবেল ভূঁইয়াকে নারায়ণগঞ্জ আদালত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি বলে জানা গেছে।
তবে তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার বর্তমান অবস্থা ও সুনির্দিষ্ট মামলাসংখ্যা আদালতের নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
রুবেল ভূঁইয়াকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই তারাব দক্ষিণপাড়া ও আশপাশের এলাকায় নানা অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে তাকে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২১ সালের একটি প্রতিবেদনে একই পরিবারের চার সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় রুবেল, তার ভাই মাদুম, ভাতিজা শ্রাবণসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে রূপগঞ্জ থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় রুবেল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ওই মামলায় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর তার জামিনসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে আদালতে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনাও সামনে আসে। আদালত পুলিশের অনুসন্ধানে বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে তৈরি করা নথি ভুয়া বলে শনাক্ত হওয়ার কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এদিকে তারাব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, রুবেল ভূঁইয়া একা নয়; তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য ও সহযোগীদের ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী অপরাধী বলয় সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রুবেলের বড় ভাই মাসুম ওরফে ‘কুত্তা মাসুম’ এবং মাসুমের ছেলে শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণ’কেও এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত, জমি-বাড়ি সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা জরুরি।
শ্রাবণকে ঘিরে কিশোর গ্যাং ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগের তথ্যও আগের সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে তারাব এলাকায় সংঘর্ষ, অস্ত্রের ব্যবহার ও আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় শ্রাবণ ও রুবেলের নাম উঠে আসে।
আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রুবেল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকসহ ১৬টি মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে তার ভাই মাসুমের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলার কথা বলা হয়। তবে মামলার সংখ্যা ও বর্তমান আইনগত অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে; তাই প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট থানার মামলা রেজিস্টার ও আদালতের নথি থেকে তা যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কথিত প্রভাবশালী অপরাধীচক্রের কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। রুবেল ভূঁইয়ার গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাই এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে তাদের দাবি। একই সঙ্গে তারা রুবেলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গ্রেপ্তারের পর কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ ছাড়াই মামলাগুলোর তদন্ত সম্পন্ন হবে এবং অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








Discussion about this post