শীতলক্ষ্যায় সাবেক সিটি করপোরেশন কর্মচারীর রহস্যজনক মৃত্যু
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফরহাদ রহমান (৫২) নামে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এক সাবেক কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর মডেল থানার পোর্ট এলাকার ৪ নম্বর ঘাট সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ থানা পুলিশ।
নিহত ফরহাদ রহমান নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ৪৮ নম্বর নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের উত্তর চাষাঢ়া এলাকার শহীদুর রহমান ও মেহেরুন নেসার ছেলে।
তিনি নগরীর ডনচেম্বার এলাকার আরজু ভিলায় স্ত্রী রত্না রহমান ও একমাত্র মেয়ে ফারাহ রহমানকে নিয়ে বসবাস করতেন।
এক বছর সেপ্টেম্বরে তার এক কন্যা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।
এর পূর্বে তার এক ভাই জেলা প্রশাসনের দপ্তরে চাকরিরত অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যুবরণ করলেও আজও পর্যন্ত সেই রহস্যের উদঘাটন হয় নাই।
নিহত ফরহাদ রহমান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের চাকরিরত অবস্থায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পক্ষ হয়ে সিটি কর্পোরেশনের সকল তথ্য সরবরাহের অভিযোগ অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয় তাকে।
তৎকালীন সময়ে শামীম ওসমানের দোহাই দিয়ে খুদ সিটি মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভীসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানানভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও ছিলো তার বিরুদ্ধে।
সিটি কর্পোরেশনের চাকরি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনবরত দফায় দফায় হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত তার চাকরি চলে যায়।
নারায়ণগঞ্জ নৌ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাড়ি থেকে বের হন ফরহাদ। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৪ নম্বর ঘাটের জেটির সামনে নদী থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরহাদকে জেটিতে বসা অবস্থায় দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি নদীতে পড়ে যান। প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে তাকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গেলেও তাদের আর উদ্ধারকাজে অংশ নিতে হয়নি।
এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সিআইডি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিম নম্বর সংগ্রহ করা হয়। পরে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ফরহাদের একমাত্র মেয়ে ফারাহ ও অন্যান্য স্বজনরা নৌ থানায় এসেছেন। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে দাফন করতে চান বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
তবে ফরহাদের মৃত্যুকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একটি সূত্রের দাবি, উত্তর চাষাঢ়ার পারিবারিক বাড়ি নিয়ে ফরহাদের সঙ্গে আত্মীয়দের বিরোধ ও মামলা চলমান ছিল। এ কারণে তার নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে ফরহাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত না হলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ফরহাদ রহমান কীভাবে নদীতে পড়লেন এবং তার মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত নাকি অন্য কোনো ঘটনা—এ বিষয়ে তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।









Discussion about this post