ফতুল্লায় বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাকে মারধরের অভিযোগ, মোহনের সব পদ স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় ফতুল্লা থানা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মোহন আহম্মেদ ওরফে মমিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে ফতুল্লা থানা বিএনপি। তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের সকল পদ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বারী ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফতুল্লা থানা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মোহন আহম্মেদ ওরফে মমিনের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে রামারবাগ এলাকায় ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার এবং সহসাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহন আহম্মেদ ওরফে মমিন, আলতাফ এবং তাদের সহযোগীরা ওই দুই বিএনপি নেতাকে মারধর করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুপার স্টার কোম্পানির একটি ট্রাক দুর্ঘটনাবশত মোহনের বাড়ির বাইরের একটি সিঁড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে সিঁড়িটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোহন, আলতাফসহ কয়েকজন ট্রাকচালককে মারধর করেন এবং ট্রাকটি রাস্তার মাঝখানে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ওই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি দেখতে পান বিএনপি নেতা রুহুল আমিন শিকদার ও আনিছুর রহমান। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে যানজট নিরসন এবং ট্রাকচালককে মারধরের কারণ জানতে চান বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে মোহন ও আলতাফের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে আনিছুর রহমানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। রুহুল আমিন শিকদার এতে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
হামলার শিকার বিএনপি নেতা রুহুল আমিন শিকদার বলেন, “এই আঘাত শুধু শরীরে লাগেনি, লেগেছে কলিজায়। আশপাশের সুপার স্টার শোরুমের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হয়ে যাবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মোহন ও আলতাফসহ তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলার পেছনে তাকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, “সুপার স্টার বাল্ব কোম্পানির একটি গাড়ি দুর্ঘটনাবশত মোহনের বাড়ির বাইরের সিঁড়িতে আঘাত করে। এতে সিঁড়িটির আংশিক ক্ষতি হয়। পরে মোহন তার সহযোগীদের নিয়ে চালককে মারধর করে এবং গাড়িটি রাস্তার মাঝখানে থাকায় পুরো রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়।”
তিনি বলেন, “আমরা সেখানে গিয়ে যানজট নিরসনের পাশাপাশি চালককে মারধরের কারণ জানতে চাই। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলতাফ এসে আমাকে চড় মারেন। এ সময় রুহুল আমিন শিকদার প্রতিবাদ করলে মোহন, আলতাফ ও তাদের সহযোগীরা আমাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে।”
তিনি আরও বলেন, হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে মোহন, আলতাফসহ অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে তিনি দাবি করেন।
দুই নেতাকে মারধরের খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাদের অনুসারী শতাধিক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এতে রামারবাগ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কথিত হামলাকারীদের খুঁজতে মোহনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে তাকে না পেয়ে বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান।
তিনি বলেন, “থানা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাকে মারধরের সংবাদ পেয়ে বিএনপি নেতা তৈয়াবুর রহমান ও আমি, অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি শত শত নেতাকর্মী উত্তেজিত অবস্থায় রয়েছে এবং হামলাকারীদের খুঁজছে। পরিস্থিতি যাতে ভয়াবহ আকার ধারণ না করে, সেজন্য আমরা তাদের বুঝিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিই।”
তিনি হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, “সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার বাদী হয়ে আটজনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামারবাগ এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, পরবর্তীতে হামলাকারীদের বাড়িতে ভাঙচুর এবং অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় ফতুল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।








Discussion about this post