রূপগঞ্জে ছাত্রদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৩ আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৩ রাউন্ড গুলি
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজধানীর ডেমরা থানার একটি মামলার তদন্তে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের একটি দল।
পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে একটি শটগান, দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৩ রাউন্ড গুলি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে রূপগঞ্জের বরাবো ও বিরাব এলাকায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি ডেমরার বড়ভাঙ্গা এলাকার তাপস (৩৮)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মো. মাসুদ রানা (৩৫) ডেমরার পূর্ব বক্সনগর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক।
ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার রাত আড়াইটার দিকে ডেমরার সুলতানা কামাল সেতুর ঢাল এলাকা থেকে প্রথমে তাপসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রূপগঞ্জের বরাবো এলাকায় অভিযান চালায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বরাবো শরীফ মেলামাইলন-সংলগ্ন জলিলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মো. মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় ওই বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরের কাঠের পাটাতনের ওপর থেকে একটি পুরোনো একনলা শটগান ও আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বরাবো এলাকায় তাপসের ভাড়া বাসায়ও অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, তার থাকার কক্ষের সানশেডের ওপর থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে রূপগঞ্জে চালানো পৃথক অভিযানে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা তাইফুর রহমান জানান, গত ২৮ আগস্ট ভোরে ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় বিএনপি নেতা মো. সেলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, ওই গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে রূপগঞ্জ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও যাচাই করা হবে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, ডেমরা থানার একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএমপির একটি দল রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় বরাবো ও বিরাব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় পৃথক কোনো মামলা হয়নি। ডেমরা থানার মূল মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির উৎস, বৈধতা এবং সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় এগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।








Discussion about this post