আইনশৃঙ্খলা ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা, কৃষক দল নেতার বহিষ্কারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ :
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার জেরেই তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলামিন ইকবাল।
তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা, আদর্শ ও সাংগঠনিক স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে কৃষক দলের দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আলামিন ইকবালকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা, আদর্শ ও সাংগঠনিক স্বার্থপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগে’ তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
তবে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কোনো ঘটনার উল্লেখ না থাকলেও আলামিন ইকবালের দাবি, দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তার ফেসবুক পোস্টই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মূল কারণ।
আলামিন ইকবাল বলেন, কৃষক দলের দপ্তর সম্পাদক তাকে ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি কেন ফেসবুকে সরকার ও দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট করছেন।
তার ভাষ্য, “আমি তাকে বলেছি, দেশের বিদ্যুৎ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যা সত্য, তাই লিখেছি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও আমি একইভাবে সমালোচনা করতাম। সত্য কথা বলাই যদি আমার অপরাধ হয়, তাহলে আপনারা যে শাস্তি দিতে চান, দিন। ওই রাতেই তারা আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।”
বহিষ্কারের ঘটনায় ক্ষোভ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আলামিন ইকবাল বলেন, তিনি এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নন। তার দাবি, তিনি নতুন করে রাজনীতিতে আসেননি বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দলে যোগ দেননি। দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিকূল পরিবেশে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি ৫ আগস্টের পর দলে আসিনি। আওয়ামী লীগের আমল থেকেই সাহসিকতার সঙ্গে বিএনপির রাজনীতি করে আসছি। আমি দলীয় পদ-পদবি বিক্রি করে খাওয়া কোনো ব্যক্তি নই। দেশে গণতন্ত্র আছে, আর আমি সেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি বলেই সরকারের সমালোচনা করেছি।”
আলামিন ইকবালের বহিষ্কারের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সেবা নিয়ে সমালোচনা এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের সীমারেখা নিয়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সমালোচনার সুযোগ থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাজনৈতিক সংগঠনের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও নীতিমালাও রয়েছে। কোনো নেতার বক্তব্য ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বিবেচিত হবে, নাকি তা দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক স্বার্থের পরিপন্থী—এমন প্রশ্নে প্রায়ই দলীয় সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
এদিকে, কৃষক দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের পেছনে আলামিন ইকবালের ফেসবুক পোস্টের ভূমিকা ছিল কি না কিংবা তার বিরুদ্ধে থাকা ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ কী—সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়নি।
ফলে আলামিন ইকবালের দাবি এবং সংগঠনের আনুষ্ঠানিক বহিষ্কার বিজ্ঞপ্তির মধ্যে বহিষ্কারের প্রকৃত কারণ নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতাদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।








Discussion about this post