উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রূপগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ঘোষণা, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। শুধু শয্যা সংখ্যা বাড়ানো নয়, এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র আহ্বান
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু ওষুধ কিংবা কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবাইকে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।”
এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাড়িঘর, ছাদ, ড্রেন, নালা ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। জমে থাকা পানিই এডিস মশার বংশবিস্তারের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আবারও বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি
এদিকে দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিপুলসংখ্যক শিশুকে ইতোমধ্যে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আবারও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে এক কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধে প্রায় চার কোটি টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে।
তিনি বলেন, শুধু টিকা দিলেই হবে না; শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাও জরুরি। পুষ্টিহীনতার কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই টিকাদানের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি, পরিচর্যা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যেতে চায়। এ লক্ষ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উপজেলা পর্যায়েই আরও বেশি মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়ার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।









Discussion about this post