সুপার স্টার কোম্পানির ট্রাকের ধাক্কা ঘিরে উত্তেজনা, ফতুল্লা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা আহত
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় সুপার স্টার কোম্পানির একটি ট্রাকের ধাক্কায় বাড়ির বাইরের সিঁড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রাকচালককে মারধর ও ট্রাকটি সড়কের মাঝখানে আটকে রাখার জেরে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
পরে ওই নেতাদের অনুসারীদের পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানার রামারবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার দুই নেতা হলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার ও সহসাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুপার স্টার কোম্পানির একটি ট্রাক রামারবাগ এলাকায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনাবশত মোহন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির বাইরের অংশে থাকা একটি সিঁড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে সিঁড়িটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর মোহন, আলতাফসহ কয়েকজন ট্রাকটির চালককে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ট্রাকটি সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকায় এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি দেখতে পান ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার ও সহসাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কে যানজট নিরসন এবং ট্রাকচালককে মারধরের কারণ জানতে চাইলে মোহন ও আলতাফের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয় বলে অভিযোগ।
এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আনিছুর রহমানের অভিযোগ, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলতাফ তাকে চড় মারেন। এ সময় রুহুল আমিন শিকদার প্রতিবাদ করলে মোহন, আলতাফসহ তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বেদম মারধর করেন।
দুই বিএনপি নেতাকে মারধরের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাদের অনুসারী শতাধিক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মোহন, আলতাফসহ তাদের সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কথিত হামলাকারীদের খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে যান। একপর্যায়ে রোমান নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজতে তার বাড়িতে প্রবেশ করা হয়। তাকে সেখানে না পেয়ে বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি উত্তেজিত নেতাকর্মীদের শান্ত করেন এবং তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।
হামলার শিকার রুহুল আমিন শিকদার বলেন, “এই আঘাত শুধু শরীরে লাগেনি, লেগেছে কলিজায়। আশপাশের সুপার স্টার শোরুমের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হয়ে যাবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে মোহন ও আলতাফসহ তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে।
সহসাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, “সুপার স্টার বাল্ব কোম্পানির একটি গাড়ি দুর্ঘটনাবশত মোহনের বাড়ির বাইরের সিঁড়িতে আঘাত করে। এতে সিঁড়ির আংশিক ক্ষতি হয়। এরপর মোহন ও তার সহযোগীরা চালককে মারধর করে এবং গাড়িটি রাস্তার মাঝখানে আটকে রাখে। এতে পুরো রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সেখানে গিয়ে যানজট নিরসন এবং চালককে কেন মারধর করা হচ্ছে তা জানতে চাই। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলতাফ আমাকে চড় মারেন। রুহুল আমিন শিকদার প্রতিবাদ করলে মোহন, আলতাফসহ তাদের সহযোগীরা আমাদের ওপর চড়াও হয়ে বেদম মারধর করে।”
আনিছুর রহমানের দাবি, খবর পেয়ে তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এরপর হামলাকারীরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে যায়।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, থানা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাকে মারধরের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে শত শত নেতাকর্মীকে উত্তেজিত অবস্থায় দেখতে পান।
তিনি বলেন, “পরিস্থিতি যাতে ভয়াবহ রূপ না নেয়, সে জন্য আমি নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে শান্ত করি এবং ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে আনি। তবে থানা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার ওপর হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামারবাগ এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে সুপার স্টার কোম্পানির ট্রাকের দুর্ঘটনা, চালককে মারধর, সড়কে যানজট সৃষ্টি এবং পরবর্তীতে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার ওপর হামলা ও পাল্টা ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।








Discussion about this post