শাহজাহান কবির,
আড়াইহাজার প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় টানা চার দিনের ব্যবধানে দুইটি হত্যা ও একটি ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে। উপজেলার জাঙ্গালিয়া কবরস্থান এলাকায় মো. আলিউল্লাহ (২৬) নামে এক অটোরিকশাচালককে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। হত্যার পর তার অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরদিন সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আলিউল্লাহ পাশ্ববর্তী সোনারগাঁ উপজেলার বিশনাদী ভিটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুনের ছেলে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লস্করদী এলাকায়। দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে মোক্তার হোসেন ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মতিনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে প্রবাস ফেরত যুবক সিয়াম (২৬)সহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে সিয়ামকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার সকালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সিয়াম মোক্তার হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ শনিবার দিবাগত রাতে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে মামলার ৬ নম্বর আসামি হিরণকে গ্রেফতার করে।
এদিকে একই দিন রাতে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীনিবাসদী এলাকায় সরকারি আবাসন প্রকল্পের এক প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় সজিব ওরফে কালাই নামের এক যুবক জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত সজিব একই এলাকার শাহজাহানের ছেলে। এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গ অঞ্চল) মেহেদী ইসলাম জানান, প্রতিটি ঘটনায় পৃথক মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, “ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সিয়াম হত্যা মামলায় হিরণ নামে এক আসামিকেও আটক করা হয়েছে। অন্যান্য ঘটনাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, স্বল্প সময়ে একাধিক গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় তারা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।









Discussion about this post