আড়াইহাজারে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীসহ তিনজন আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পারিবারিক কলহের জেরে ঐষী পোদ্দার (১৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঐষীকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দী দক্ষিণপাড়া এলাকার শিবু রায়ের বাড়ি থেকে ঐষীর মরদেহ উদ্ধার করে গোপালদী পুলিশ ফাঁড়ি।
পুলিশ জানায়, সকালে খবর পেয়ে ওই বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ঐষীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত ঐষী পোদ্দারের বাবা শংকর পোদ্দার অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে উলুকান্দী দক্ষিণপাড়া এলাকার শিবু রায়ের ছেলে শান্ত কুমার রায়ের সঙ্গে ঐষীর বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ দেওয়া হলেও বিয়ের প্রায় এক মাস পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঐষীর ওপর বাবার বাড়ি থেকে আরও টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
তার অভিযোগ, পরে তিনি মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ঐষীর স্বামী শান্ত কুমার রায়কে দুই লাখ টাকা দেন। এর কিছুদিন পর ঐষী গর্ভবতী হন। একপর্যায়ে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে তার গর্ভসন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঐষীকেই দায়ী করে এবং তার চরিত্র নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শংকর পোদ্দারের দাবি, এ বিষয়গুলো নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ঐষীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল।
নিহতের মা রানী পোদ্দার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন ঐষীকে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। পরে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিংফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “ঐষী খাটে বসা অবস্থায় কীভাবে সিলিংফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিতে পারে?” তার দাবি, মেয়েকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঐষীর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা অভিযুক্ত করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছি।”
ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঐষীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।








Discussion about this post